আল্লাহ যা করেন বান্দার ভালোর জন্যই | দুঃখ নয়, সবই ভাগ্যানুসারে ঘটবে


sadness fateদুঃখ নয়, তকদীর অনুপাতে ও যা সিদ্ধান্ত করা হয়েছে সে অনুসারেই সব কিছু ঘটে। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর উম্মত মুসলিমদের ইসলাম ধর্ম-বিশ্বাস এমনই। আল্লাহর ইলমের বাইরে, তার অনুমতি ছাড়া এবং ঐশী পরিকল্পনা ছাড়া এ বিশ্ব জগতে কোন কিছুই ঘটে না।

আবু আবদুর রহমান আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম, যিনি সত্যায়নকৃত সত্যবাদী ছিলেন, তিনি আমাদের বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমাদের প্রত্যেক মানুষের সৃষ্টি তার মায়ের পেটে চল্লিশ দিন শুক্ররূপে জমা হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়, অতপঃর চল্লিশ দিন জমাট বাঁধা রক্তপিণ্ডে পরিণত হয়, তারপর চল্লিশ দিন মাংসপিণ্ডে পরিণত হয়। অতঃপর তার কাছে ফেরেশতা প্রেরিত হয়। তিনি (ফেরেশতা) তার ভেতর রুহ ফুঁকে দেন। তাঁকে চারটি বিষয় লিখে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, জীবিকা, বয়স, আমল ও তার সৌভাগ্য-দুর্ভাগ্য।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৩২০৮)

“পৃথিবীতে এবং তােমাদের মাঝে যে বিপর্যয় আসে তা আমি ঘটানাের পূর্বেই কিতাবে লিপিবদ্ধ আছে, নিশ্চয় সে কাজ আল্লাহর পক্ষে সহজ।” [৫৭-সূরা আল হাদীদ : আয়াত-২২]

“নিশ্চয় আমি প্রতিটি জিনিসকেই তার পূর্বনির্ধারণী অনুসারেই সৃষ্টি করি।” [৫৪-সূরা আল ক্বামার : আয়াত-৪৯] অবশ্যই দুঃখের সাথে সুখ আছে।” (৯৪-সূরা আল ইনশিরাহ: আয়াত ৬)

তাকদিরের চার স্তর

ভাগ্যে বিশ্বাসের মোট চারটি স্তর রয়েছে। যথা—

এক. জ্ঞান তথা এই বিশ্বাস করা যে, আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞাত। কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ মহাজ্ঞানী ও প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা নিসা, আয়াত : ১১)

দুই. ভাগ্যলিখন তথা এই বিশ্বাস স্থাপন করা যে, আল্লাহ তাআলা লাওহে মাহফুজে সব কিছুর ভাগ্য লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয় তা কিতাবে রয়েছে, নিশ্চয় তা আল্লাহর কাছে খুবই সহজ।’ (সুরা হজ, আয়াত : ৭০)

তিন. ইচ্ছা অর্থাৎ আসমান ও জমিনে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কিছুই হয় না। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয় আমি সব কিছু তার পরিমাপে সৃষ্টি করেছি।’ (সুরা কামার, আয়াত : ৪৯)

চার. সৃষ্টি। তাহলো আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর সৃষ্টি। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি সব কিছু সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের ভাগ্য নির্ধারণ করেছেন।’ (সুরা ফোরকান, আয়াত : ২)

আহার করার পর পুনরায় ক্ষুধা লাগে, পান করার পর পুনরায় পিপাসা জাগে। অস্থিরতার পর ঘুম আসে। অসুস্থতার পর সুস্থতা আসে, পথ হারার পর পথ খুঁজে পাবে আর রাতের পর দিন আসবে এটাই নিয়ম।

বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় জানতে ভিজিট করুন www.prosno.xyz | সাথেই থাকুন www.IslamBangla.Com ভিজিট করতে থাকুন ।

“এবং অবশ্যই আমি তােমাদেরকে ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষতি ইত্যাদি কতিপয় জিনিস দ্বারা পরীক্ষা করব এবং (হে নবী মুহাম্মাদ!) আপনি ধৈর্যশীলদেরকে (জান্নাতের) সুসংবাদ দিন।” [২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-১৫৫]

একটি হাদীসে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন: “মুমিনের কাজ বড়ই আশ্চর্যজনক! নিশ্চয় তাঁর সব কাজই তার জন্য কল্যাণকর। যখন তার কোন কল্যাণ হয় তখন শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার আরাে কল্যাণকর হয়ে যায়। আর যখন তার কোন ক্ষতি হয় তখন সে ধৈর্য ধারণ করে, ফলে সে ক্ষতিও তার জন্য কল্যাণকর হয়ে যায়। আর এমনটি মুমিন ছাড়া অন্য কারাে জন্যই হয় না।”

একটি বিশুদ্ধ হাদীসে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন: “যখন তুমি কোন কিছু চাইবে, তখন তুমি তা আল্লাহর নিকটে চাও, আর যখন তুমি সাহায্য চাইবে তখন তুমি আল্লাহর নিকটই সাহায্য চাও। আর জেনে রাখ যে, সব মানুষও যদি কোন বিষয়ে তােমার উপকার করার জন্য একত্রিত হয় তবুও তারা তা করতে পারবে না।

তবে আল্লাহ তােমার ভাগ্যলিপিতে যেটুকু লিখে রেখেছেন ততটুকু উপকার করতে পারবে। আর যদি তারা তােমার ক্ষতি করার জন্যও একত্রিত হয় তবুও তারা তা করতে পারবে না, তবে তােমার ভাগ্যলিপিতে আল্লাহ যেটুকু লিখে রেখেছেন-সেটুকু ক্ষতি তারা করতে পারবে। কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে এবং (কালিতে লিখিত) পৃষ্ঠাসমূহ শুকিয়ে গেছে।”

নবী করীম (সাঃ) (তার উপর করুণা ও শান্তি বর্ষিত হােক) আরাে বলেছেন: “এবং জেনে রাখ যে, যা তােমার নিকট এসেছে তা তােমার নিকট না আসার ছিল না এবং যা তােমার নিকট আসেনি তা তােমার নিকট আসার ছিল না।”

অন্য একটি নির্ভরযােগ্য হাদীসে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন: “যা তােমার উপকার করবে তার জন্য চেষ্টা কর, আল্লাহর নিকট সাহায্য চাও, দুর্বল হয়াে না ও এ কথা বলাে না যে, আমি অমুক অমুক কাজ করলে অবস্থা এমন এমন হতাে। বরং একথা বল যে, আল্লাহ সিদ্ধান্ত করে ফেলেছেন এবং তিনি যা চান তা তিনি করেন।”

আরাে একখানি নির্ভরযােগ্য হাদীসে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন: “বান্দার জন্য আল্লাহ যে ফয়সালা করেন তা তার জন্য কল্যাণকর।”মহান আল্লাহ বলেন: “এবং এমনও হতে পারে যে, তােমরা যা অপছন্দ কর তা তােমাদের জন্য কল্যাণকর আর এমনও হতে পারে যে, তােমরা যা পছন্দ কর তা তােমাদের জন্য ক্ষতিকর এবং আল্লাহ জানেন আর তােমরা জান না।” [২-সূরা বাক্বারা : আয়াত-২১৬]

শাইখুল ইসলাম আল্লামা ইবনে তাইমিয়াকে পাপ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করা হলাে, এটা কি কারাে জন্য উপকারী? তিনি বললেন! “হ্যা, তবে এ শর্তে যে, পাপের পর লজ্জিত, অনুতপ্ত, ক্ষমা প্রার্থনাকারী ও মানসিকভাবে চরম অনুতপ্ত হতে হবে।”

সুত্রঃ অনলাইন