Islam (ইসলাম ধর্ম)


ইসলাম (Islam) (আরবি) : আল-ইসলাম  (الإسلام‎‎) একটি একেশ্বরবাদী এবং ইব্রাহিমীয় ধর্মবিশ্বাস যার মূল শিক্ষা হল, এক আল্লাহ ছাড়া আর কোন স্রষ্টা নেই এবং মুহাম্মদ (সঃ) হলেন আল্লাহর প্রেরিত সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবী ও রাসূল।

islam kaba

ইসলাম কি?

এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম (second largest religion of the world) এবং সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল প্রধান ধর্ম, যার অনুসারী সংখ্যা ১.৯ বিলিয়ন এবং পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৪.৪ %, যারা মুসলমান নামে পরিচিত। মুসলমানরা ৫০ এর অধিক দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনসমষ্টি। ইসলাম (Islam) শিক্ষা দেয় যে আল্লাহ দয়ালু, করুনাময়, এক ও অদ্বিতীয় এবং একমাত্র ইবাদতযোগ্য অভিভাবক।

মানবজাতীকে পথ প্রদর্শনের জন্য তিনি যুগে-যুগে অনেক নবী-রাসূল, আসমানী কিতাব এবং নিদর্শন পাঠিয়েছেন । ইসলামে প্রধান ধর্মগ্রন্থ হলো পবিত্র কুরআন যা স্বয়ং আল্লাহর বানী; আর সর্বশেষ ও চূড়ান্ত নবী মুহাম্মদ (২৯ আগস্ট ৫৭০- ৮ জুন ৬৩২) এর কথা, কাজ ও মৌনসম্মতিকে সুন্নাহ বলা হয় যা হাদীস নামে লিপিবদ্ধ রয়েছে। তবে সমস্ত সুন্নাহই হাদিস কিন্তু সমস্ত হাদিস সুন্নাহ নয়।

সৌদি আরবের মক্কার কাবা শরীফ; যেখানে সারা বিশ্বের লাখো মুসলিম একতার মাধ্যমে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতার সাথে প্রার্থনা করে থাকেন।ইসলামী ধর্মগ্রন্থানুযায়ী, এটি আল্লাহর নিকট একমাত্র গ্রহণযোগ্য পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। যা তুলনামূলক আর কোন ধর্ম দাবি করে না। ইসলাম শুধুমাত্র মক্কা-মদীনা বা আরব দেশগুলোর জন্য নয় বরং ইসলাম পৃথিবীর সকল বর্ণ, গোত্র, জাতি এবং ধনী-গরীব, সাদা-কালো ও আরব-অনারব সকল মানুষের জন্যই প্রেরিত।

অন্যান্য ইব্রাহিমীয় ধর্মের মতো ইসলামও শেষবিচারের শিক্ষা দেয় যেখানে সৎকর্মশীলরা পুরষ্কারস্বরূপ জান্নাত পাবে আর পাপীরা জাহান্নামের সাজা পাবে।

পবিত্র তিন শহর

মক্কা, মদিনা ও জেরুজালেম ইসলামে সবচেয়ে সম্মানিত ও পবিত্র তিন শহর।ইসলাম কোন নতুন ধর্ম নয়, বরং সৃষ্টির শুরু থেকেই ইসলামের উৎপত্তি। আদম আঃ ছিলেন এই পৃথিবীর প্রথম মানব এবং ইসলামের প্রথম নবী। আর শেষ নবী হলেন মুহাম্মদ।

ঐতিহাসিকভাবে আব্বাসীয় খিলাফতের আমলে মুসলিম বিশ্ব বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক দিক থেকে উন্নতির শীর্ষে ছিল। ইসলামের প্রসার ঘটেছে মূলত ধর্মপ্রচার এবং রাজ্যজয়ের মাধ্যমে। রাজ্যজয়গুলো ঘটেছিল আলাদা আলাদা সম্রাজ্যের দ্বারা যেমন উসমানীয় সম্রাজ্য, আর ধর্মান্তরিতকরণ ঘটেছিল ইসলামী ধর্মপ্রচার কার্যক্রমের (দাওয়াতের) মাধ্যমে, কাউকে জোর করে নয়।

ইসলামের মূল ভিত্তি কুরআন ও সহীহ হাদিস অনুযায়ী ইসলামে কোন দল বা সম্প্রদায় নেই। সকলের পরিচয়ই হবে মুসলমান এবং জীবন পরিচালনার ভিত্তি হবে এই দুটিই। কিন্তু কিছু মুসলমান কুরআন ও সহীহ হাদিসের শিক্ষা থেকে দূরে সরে গিয়ে নিজেদেরকে বিভিন্ন দলে ভাগ করেছে, যা ইসলাম সমর্থন করে না।

অর্থ বা ব্যাখ্যা (Meaning of Islam)

প্রধানত দুইটি অর্থ পাওয়া যায়-

  • এক অদ্বিতীয় আল্লাহর কাছে আত্নসমর্পণ করা (২:১১২)
  • শান্তি স্থাপন তথা বিরোধ পরিহার করা । ২য় অর্থটির ব্যাখ্যা হলোঃ

১।আত্নসমর্পনে আল্লাহর সহিত শান্তি স্থাপিত হয় এবং তার বিরুদ্ধতা পরিত্যক্ত হয় ।

২।আল্লাহর সৃষ্ট মানুষের সাথে একাত্বতার অনুভূতিতে, সাম্য – নীতির স্বীকৃতিতে সমাজে শান্তি – নিরাপত্তার অনুকূল অবস্থার সৃষ্টি হয়।

ইসলাম একটি দ্বীন, পারস্পরিক ব্যবহার, লেন-দেন সবই এর অন্তর্ভুক্ত। দ্বীনের উৎস কুরআন। এটি একটি পরিপূর্ন জীবন ব্যবস্থা। সে কারণে ইবাদত ও দার্শনিক বিষয়াবলির পাশাপাশি এটি মানবজীবনের সর্বক্ষেত্রে, সর্ববিষয়ে নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মাবলির প্রতিও গুরুত্ব দেয়।

“রিলিজিয়ন” বা “ধর্ম” বলতে যে আধ্যাতিক ও পারত্রিক জীবন-দর্শন ও ক্রিয়াকর্ম বুঝায় সেই অর্থে একে “ধর্ম” বললে কোনভাবেই এর পুরো অর্থ প্রকাশ পায়না।

ইসলাম মানুষের চিরন্তন ধর্ম। এর মূল কথা হলঃ

  • আল্লাহর একত্ব ও অদ্বিতীয়ত্বে বিশ্বাস,
  • রাওমূ’ল আখির বা মৃত্যুর পর পুনরুত্থান ও বিচারান্তে অনন্ত পরজীবনে বিশ্বাস, এবং
  • আমাল স.আলিহ্ বা সৎকর্মে আত্ননিয়োগ।

বিশ্বাসের পর্যায়গুলো হল

  1. ফিরিশতাগন,
  2. আসমানী কিতাবমূহ এবং
  3. নবী -রাসূল, আর
  4. শেষ দিবসের প্রতি বিশ্বাস
  5. আল্লাহর সর্বময় নিয়ন্ত্রণ (তাকদীর)-এ বিশ্বাস ও উপরের তিনটি মৌলিক উপাদানের সাথে যুক্ত হয়।

প্রথম মানব ও নবী আদম হতে শেষ নবী মুহাম্মদ পর্যন্ত কুরআনে উল্লিখিত / অনুল্লিখিত সকল নবী-রাসূল, পৃথিবীর বিভিন্ন গোত্র ও জাতীর কাছে, উপরের তিন উপাদান সম্বলিত ইসলাম প্রচার করেছিলেন।

এই তিনের ভিত্তিতে কুরআন সমসাময়িক ইহুদী, খৃষ্টান, স.আবিঈ ও মাজূসী অর্থাৎ সকল ধর্মাবলম্বীকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছিল এবং আহ্বানে সাড়া দিলে নিরাপত্তা ও মুক্তির নিশ্চয়তা দিয়েছিলো। এখনও সেই আহ্বান কার্যকর রয়েছে।

ধর্ম বিশ্বাস

ধর্ম বিশ্বাসের মূল ভিত্তি আল্লাহর একত্ববাদ।তারা আরও বিশ্বাস করেন, তাদের পবিত্র গ্রন্থ কুরআন নিখুঁত, অবিকৃত ও মানব এবং জ্বিন জাতির উদ্দেশ্যে অবতীর্ণ আল্লাহর সর্বশেষ বাণী, যা পুনরুত্থান দিবসবা কেয়ামত পর্যন্ত বহাল ও কার্যকর থাকবে। তবে কিছু সম্প্রদায়, যেমনঃ আহ্মদি বা কাদিয়ানী নামক একটি সম্প্রদায় মনে করে মুহাম্মদ শেষ নবী নন; বরং যুগের চাহিদা মোতাবেক নবুওয়াতের ধারা অব্যহত থাকবে এবং শিয়াদের একটি বিরাট অংশবিশেষ ইসমাঈলীয়দের মধ্যে প্রচলিত বিশ্বাস যে, ইমাম ইসমাঈল আখেরী নবী ছিলেন। 

ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, আদম হতে শুরু করে আল্লাহ্ প্রেরিত সকল পুরুষ ইসলামের বাণীই প্রচার করে গেছেন। কুরআনের সূরা ফাতিরে বলা হয়েছে,

“নিঃসন্দেহে আমি তোমাকে (মুহাম্মদ) পাঠিয়েছি সত্যের সাথে সুসংবাদদাতা এবং সতর্ককারীরূপে। আর এমন কোনো সম্প্রদায় নেই, যাঁদের মধ্যে একজন সতর্ককারী পাঠানো হয়নি।”৩৫:২৪

ইসলামের দৃষ্টিতে ইহুদি ও খ্রিস্টান উভয় ধর্মাবলম্বীরাই ইব্রাহিমের শিক্ষার ঐতিহ্য পরম্পরা। উভয় ধর্মাবলম্বীকে কুরআনে “আহলে কিতাব” বলে সম্বোধন করা হয়েছে । কুরআনের সূরা আলে ইমরানে আহবান করা হয়েছে,

“তুমি (মুহাম্মদ) বল, হে কিতাবীগণ, এসো সেই কথায় যা তোমাদের এবং আমাদের মধ্যে এক; যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত কারও ইবাদত না করি। কোনো কিছুকেই তাঁর শরিক না করি। এবং আমাদের কেউ কাউকে আল্লাহ ব্যতীত উপাস্য হিসেবে গ্রহণ না করি। যদি তাঁরা মূখ ফিরিয়ে নেয় তবে বল, তোমরা স্বাক্ষী থাক; অবশ্যই আমরা মুসলিম।”৩:৬৪

এই ধর্ম দুটির গ্রন্থসমূহের বিভিন্ন ঘটনা ও বিষয়ের উল্লেখ কুরআনেও রয়েছে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে রয়েছে পার্থক্য। ইসলামি বিশ্বাসানুসারে এই দুই ধর্মের পন্ডিতগণ তাদের নিকট প্রদত্ত আল্লাহ্-এর বাণীর অর্থগত ও নানাবিধ বিকৃতসাধন করেছেন। ইহুদিগণ তৌরাতকে (তোরাহ) ও খৃস্টানগণ ইনজিলকে নতুন বাইবেল বলে থাকে।

আল্লাহ্ (Allah)

মুসলমানগণ বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তাকে ‘আল্লাহ’ বলে সম্বোধন করেন। ইসলামের মূল বিশ্বাস হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তৌহিদ। আল্লাহর একত্বের সাক্ষ্য দেওয়া ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের মধ্যে প্রথম, যাকে বলা হয় শাহাদাহ। এটি পাঠের মাধ্যমে একজন স্বীকার করেন যে, আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কোনো উপাস্য নাই এবং মুহাম্মদ [সঃ] তার প্রেরিত বাণীবাহক বা রাসূল সুরা ইখলাসে আল্লাহর বর্ণনা দেয়া হয়েছে এভাবে,

[قُلْ هُوَ اللهُ أَحَدٌ. اللهُ الصَّمَدُ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ. وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُوًا أَحَدٌ] {الاخلاص:১-৪]

“বলুন, তিনি আল্লাহ, এক, আল্লাহ অমুখাপেক্ষী, তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।”১১২:১-৪

এই পৃথিবীর কোন কিছু যদি সূরা ইখলাসে উল্লেখ করা এই ৪ টি শর্ত পূরণ করে তাহলে মুসলিমদের তাকে আল্লাহ বলে মেনে নিতে কোন সমস্যা থাকবে না।

কিতাবুল ঈমানে আল্লাহর বর্ণনা এভাবে আছে :

আল্লাহ এক, অদ্বিতীয়, অতুলনীয়। তার কোন অংশ বা অংশিদার বা শরিক নেই। তিনি কারো উপন নির্ভরশীল নন, বরং সকলেই তার উপর নির্ভরশীল। তার কোন কিছুর অভাব নেই। তিনিই সকলের অভাব পূরণকারী। তিনি কারো পিতা নন, পুত্র নন, তাঁর সমতুল্য কেউ নেই। একমাত্র তিনি সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা, রক্ষাকর্তা ও পালনকর্তা। কোন জ্ঞান বা চক্ষু আল্লাহ তাআলাকে আয়ত্ব করতে পারেনা।

তিনি চিরকাল আছেন এবং থাকবেন। তিনি অনাদি ও অনন্ত। আল্লাহ ছাড়া আর কোন মাবুদ নাই। একমাত্র তিনিই ইবাদত (উপাসনা) পাওয়ার যোগ্য। তিনি সর্বশক্তিমান। আল্লাহ তায়ালা দুনিয়াতে ঘটমান সব কিছু দেখতে ও শুনতে পান। তাঁর কোনো কিছুর প্রয়োজন নেই, তিনি সবকিছুর ঊর্ধ্বে।

মুসলিমরা বিশ্বাস করে, আল্লাহর বর্ণনা মানুষের কল্পনা, বিজ্ঞান ও দর্শন দ্বারা জানা সম্ভব না।

ফেরেশতা

ফিরিশতা বা ফেরেশতা ফারসী শব্দ। ফেরেশতা আরবী প্রতিশব্দ হলো ‘মালাইকা’। ফেরেশতায় বিশ্বাস ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসের একটি মূল নীতি। এরা অন্য সকল সৃষ্টির মতই আল্লাহর আরেক সৃষ্টি। তারা মুলত আল্লাহর দূত। তারা সর্বদা ও সর্বত্র আল্লাহর বিভিন্ন আদেশ পালনে রত এবং আল্লাহর অবাধ্য হবার কোনো ক্ষমতা তাদের নেই। ফেরেশতারা নূর তথা আলোর তৈরি। তারা খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ করেন না। তারা পবিত্র স্থানে অবস্থান করেন। তারা আল্লাহর আদেশ অনুসারে যেকোনো স্থানে গমনাগমন ও আকৃতি পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখেন।

ফেরেশতাদের সংখ্যা অগণিত। ইসলামে তাদের কোনো শ্রেণীবিন্যাস করা না হলেও চারজন গুরুদায়িত্ব অর্পিত প্রধান ফেরেশতার নাম উল্লেখযোগ্য:

  • জিব্রাইল – ইনি আল্লাহর দূত ও সর্বশ্রেষ্ঠ ফেরেশতা। জিব্রাইল-ই আল্লাহর বাণী নিয়ে নবীদের কাছে গমনাগমন করেন। এই ফেরেশতাকে ইসলামের নবীমুহাম্মদ তার নিজস্ব আকৃতিতে মোট দুইবার দেখেছেন। পবিত্র কোরআনে সূরা আন নাজমে বলা হয়েছে,

“সে ঊর্ধ্বাকাশের উপরিভাগে। তারপর সে কাছে এলো। অতঃপর সে আরো কাছে এলো। তাঁদের মাঝে ব্যবধান থাকল দুই ধনুকের বা তাঁর চাইতেও কম। অতঃপর সে তাঁর বান্দার কাছে ওহী পৌঁছে দিল, যা তাঁর পৌঁছানোর ছিল। সে যা দেখেছে, অন্তর তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেনি। তোমরা কী সে বিষয়ে বিতর্কে লিপ্ত হতে চাও, যা সে নিজের চোখে দেখেছে। সে তাঁকে আরও একবার দেখেছিল। সিদরাতুল মুন্তাহার কাছে।” ৫৩:৭-১৪

প্রাসঙ্গিক হাদিসসমূহ: মুসলিম শরীফ ৩২৯, ৩৩০, ৩৩২, ৩৩৩, ৩৩৪ এবং ৩৩৬

  • মিকাইল – কুরআনের ২:৯৭ আয়াতে এই ফেরেশতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ইনি বৃষ্টি ও খাদ্য উৎপাদনের দায়িত্বপ্রাপ্ত।
  • ইসরাফিল – এই ফেরেস্তা আল্লাহর আদেশ পাওয়া মাত্র শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়ার মাধ্যমে কিয়ামত বা বিশ্বপ্রলয় ঘটাবেন। তার কথা কুরআন শরীফে বলা না হলেও হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • মালাকুল-মাউত – ইনি মৃত্যুর ফেরেশতা ও সকল প্রাণীর রূহ কবচ করেন।

কবরে মুনকির ও নাকির নামের দুই ফেরেশতা মানুষকে তার কৃত কর্মের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। মালিক নামের ফেরেশতা নরক বা জাহান্নামের রক্ষণাবেক্ষণ করেন এবং রিদওয়ান নামের আরেক ফেরেশতা জান্নাত বা বেহেশতের দেখভাল করেন বলে বর্ণিত আছে। 

আসমানী কিতাবসমূহ

আসমানী কিতাব হলো মূলত আল্লাহর বাণী যা আল্লাহ তায়ালা হযরত জিব্রাইল নামক ফেরেশতার মাধ্যমে রাসূলগণের নিকট প্রেরণ করেছেন।

প্রধান আসমানী কিতাব ৪টি; যথাঃ ১. তাওরাত ২. যবূর ৩. ইঞ্জিল ৪. কুরআন মাজীদ এ ছাড়াও আরও ১০০ সহিফা বা ছোট আসমানী কিতাব নাজিল হয়েছে।

আল-কুরআন

কুরআন মুসলিমদের মূল ধর্মগ্রন্থ। তাদের বিশ্বাস পবিত্র এই কুরআন স্রষ্টার অবিকৃত, হুবহু বক্তব্য। বিশ্বাস করা হয়, আল্লাহ নিজেই কুরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। এর আগে স্রষ্টা প্রত্যেক জাতিকে বিভিন্ন গ্রন্থ পাঠিয়েছেন, কিন্তু সেগুলোকে বিকৃত করা হয়। কুরআনকে আরও বলা হয় “আল-কুরআন” । বাংলায় “কুরআন”-এর জায়গায় বানানভেদে “কোরআন” বা “কোরান”ও লিখতে দেখা যায়।

ইসলাম ধর্মমতে, জীব্রাইল ফেরেশতার মাধ্যমে নবী মুহাম্মদ-এর নিকট ৬১০ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৬ই জুলাই, ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু অবধি বিভিন্ন সময়ে আল্লাহ তাঁর বাণী অবতীর্ণ করেন। এই বাণী তাঁর (মুহাম্মদের) অন্তঃস্থ ছিলো, সংরক্ষণের জন্য তাঁর অনুসারীদের দ্বারা পাথর, পাতা ও চামড়ার ওপর লিখেও রাখা হয়, পরে পুস্তক আকারে রুপ দেয়া হয়।

প্রত্যেক মুসলিমই কুরআনের কিছু অংশ এর মূল ভাষা আরবিতে মুখস্থ করে থাকেন, কমপক্ষে যেটুকু আয়াত নামাজ আদায়ের জন্য পড়া হয়। সম্পূর্ণ কুরআন মুখস্থকারীদের হাফিজ (সংরক্ষণকারী) বলা হয়। মুসলিমরা আরবি কুরআনকেই কেবলমাত্র নিখুঁত বলে বিশ্বাস করেন। 

নবী ও রাসূলগণ

বলা হয়, হযরত আদম আঃ থেকে শুরু করে মুহাম্মাদ পর্যন্ত আল্লাহ পৃথিবীতে প্রায় ১,২৪,০০০ (আনুমানিক) নবী ও রাসূল পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। আর তাদের মধ্যে হযরত আদম আঃ সর্ব প্রথম মানুষ ও আল্লাহর সর্ব প্রথম নবী এবং সর্ব শেষ ও চূড়ান্ত নবী ও রাসূল হলেন মুহাম্মাদ।

মুসলিমগণ বিশ্বাস করে যীশু (ঈসা) আল্লাহর পুত্র নন বরং তিনি আল্লাহর রাসূল। তার উপর ইঞ্জিল কিতাব নাজিল হয়েছে। তিনি কেয়ামতের আগে পৃথিবীতে আবার আসবেন এবং মুহাম্মদের অনুসারী হিসেবে মৃত্যু বরণ করবেন ।

ইসলামের নবী মুহাম্মদ (সঃ)

মুহাম্মদ (স) ছিলেন তৎকালীন আরবের কুরাইশ বংশের একজন। নবুওয়াত প্রাপ্তির পূর্বে তার গুণের কারণে তিনি আরবে “আল-আমীন” বা “বিশ্বস্ত” উপাধিতে ভূষিত হন। স্রষ্টার নিকট হতে নবুওয়াত প্রাপ্তির পর তিনি মানুষকে ইসলাম ধর্ম এর দিকে দাওয়াত দেন। তাকে ইসলামের শ্রেষ্ঠ বাণী-বাহক (নবী) হিসেবে শ্রদ্ধা ও সম্মান করা হয়। বিশ্বাস করা হয়, পূর্বের একেশ্বরবাদী ধর্ম বিভিন্ন সময় পরিবর্তিত ও বিকৃত হয়ে গিয়েছিল।

ইসলাম ধর্মমতে, তিনি চল্লিশ বছর বয়স হতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ২৩ বছরের বিভিন্ন সময়ে জিব্রাইলের মাধ্যমে ঐশী বাণী লাভ করেন। এই বাণীসমূহের একত্ররূপ হলো পবিত্র কুরআন, যা তিনি মুখস্থ করেন ও তার অনুসারীদের (সাহাবী) দিয়ে লিপিবদ্ধ করান। কারণ, তিনি নিজে লিখতে ও পড়তে জানতেন না।

কুরআনে বলা হয়েছে,

“তুমি তো এর আগে কোনো কিতাব পড় নি এবং স্বহস্তে কোনো কিতাব লেখনি যে অবিশ্বাসীরা সন্দেহ পোষণ করবে।”২৯:৪৮ 

“সে যদি আমার নামে কোনো কথা রচনা করতো, তবে আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম, অতঃপর কেটে দিতাম তাঁর গ্রীবা। তোমাদের কেউ তাকে রক্ষা করতে পারতে না।” ৬৯:৪৪-৪৭ 

মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, ঐশ্বিক বাণী প্রচারের ক্ষেত্রে ইসলামের নবী কখনো ভুল করেননি। আরো বিশ্বাস করা হল, তার জীবনকালে তিনি সম্পূর্ণ আলৌকিকভাবে মেরাজ লাভ করেন।

মুসলিমদেরকে শেষ বাণীবাহক মুহাম্মদের নাম উচ্চারণ করার সাথে সাথে “সাল্লাল্লা-হু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম” বলতে হয়। এর অর্থ: ‘আল্লাহ তার উপর রহমত এবং শান্তি বর্ষণ করুন।’ একে বলা হয় দরুদ শরীফ। কোনো এক বৈঠকে তার নাম নিলে দরুদ একবার বলা আবশ্যকর্তব্য (ওয়াজিব)।

হাদিস (Hadith)

‘হাদীস’ (اﻠﺤﺪﻴث) আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ হচ্ছে- কথা, বাণী, কথা-বার্তা, আলোচনা, কথিকা, সংবাদ, খবর, কাহিনী ইত্যাদি। ইসলামী পরিভাষায় মুহাম্মদের কথা, কাজ, অনুমোদন এবং তার দৈহিক ও চারিত্রিক যাবতীয় বৈশিষ্ট্যকে হাদীস বলে। মুহাম্মদের জীবদ্দশায় তার সাহাবীরা তার হাদীসসমূহ মুখস্থ করে সংরক্ষণ করতেন। প্রথমদিকে হাদীস লেখার অনুমতি ছিলো না।

তখনকার অনুন্নত মুদ্রণব্যবস্থার কারণে কেউ লিখিত হাদিসকে ভুলক্রমে কুরআনের আয়াত মনে করতে পারে এই আশংকা ছিল। পরবর্তীতে ইসলামের নবী তার কোনো কোনো সাহাবী বা সহচরকে হাদীস লেখার অনুমতি প্রদান করেন। তার মৃত্যুর পর তার সাহাবীরা নিয়মিত তার হাদিসগুলো চর্চা করতেন ও তাদের ছাত্রদের কাছে বর্ণনা করতেন। সাহাবীদের ছাত্র তথা তাবেঈরা ওমর ইবন আব্দুল আযীযের আমলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় হাদীস লিখিত আকারে সংরক্ষণ করেন।[৪৪]

মুহাম্মদের কথা-কাজসমূহের বিবরণ এভাবে লোকপরম্পরায় সংগ্রহ ও সংকলন করে সংরক্ষণ করা হলে তার বক্তব্যসমূহ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে উন্মুক্ত হয়। মুসলিম পণ্ডিতদের সংকলিত সেসব হাদিস-সংকলন গ্রন্থগুলোর মধ্যে ছয়টি গ্রন্থ প্রসিদ্ধ হয়েছে। এগুলোকে ‘ছয়টি হাদিস গ্রন্থ’ (কুতুবুস সিত্তাহ) আখ্যা দেয়া হয়। হাদিসের বিশুদ্ধতা যাচাইয়ের বিভিন্ন মাপকাঠি রয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো হাদীসের সনদ বা হাদিসের বর্ণনাকারীদের নির্ভরযোগ্য যাচাই।

কিয়ামত (Kiyamah)

কিয়ামতে বা শেষ বিচারের দিনে বিশ্বাস ইসলামের মূল বিশ্বাসগুলির একটি। ইসলাম ধর্মে কিয়ামত হলো সেই দিন যে দিন এই বিশ্বের সৃষ্টা( আল্লাহ) সকল মানুষ ও জ্বীন দের পুনরুত্থান করা হবে বিচারের জন্য। সকলে তার কৃতকর্মের হিসাব দেওয়ার জন্যে এবং তার কৃতকর্মের ফলাফল শেষে পুরস্কার বা শাস্তির পরিমাণ নির্ধারণ শেষে জান্নাত/বেহেশত কিংবা জাহান্নাম/দোযখ এ পাঠানো হবে। ইসলামের নবী কিয়ামতের পুর্বের ঘটনাবলি সম্পর্কে কিছু আগাম নিদর্শন বলে গেছেন। সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি হল

  1. নারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া
  2. ইউফ্রেটিসথেকে স্বর্ণের পাহাড় আবিষ্কৃত হওয়া
  3. ইমাম মাহদীর আগমন, নবী ঈসার অবতরণ
  4. দাজ্জাল ও ইয়াজুজ মাজুজের আবির্ভাব
  5. পশ্চিমদিকে সূর্যোদয়

ইসলামের মূল স্তম্ভ

ইসলামের ৫টি মূল স্তম্ভ রয়েছে। এগুলো হলো-

  • কালেমা(বিশ্বাস)
  • নামাজ(প্রার্থনা)
  • সিয়াম(উপবাস)
  • যাকাত(দান)
  • হজ্জ্ব(মক্কা ভ্রমণ)

বাংলাদেশে ইসলাম (Islam in Bangladesh)

ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান ধর্ম। এ দেশের সর্বাধিক জনগণ ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। বাংলাদেশে মুসলমান জনসংখ্যা প্রায় ১৪৮.৬ মিলিয়ন (১৪.৮৬ কোটি), যা বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলমান জন-অধ্যুষিত দেশ (ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান এবং ভারতের পরে)। ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুসারে, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০.৪% মুসলমান।

ঐতিহাসিক মসজিদসমূহ

  • আবু আক্কাসমসজিদ-৬৪৮
  • শাহবাজ খান মসজিদ-১৬৭৯
  • সোনা মসজিদ-১৪৯৩
  • বাঘা মসজিদ-১৫২৩
  • নয়াবাদ মসজিদ-১৭৫৫
  • খান মোহাম্মদ মৃধা মসজিদ-১৭০৩
  • ষাট গম্বুজ মসজিদ-১৫শ শতক
  • সাত মসজিদ-১৬৬৯
  • লালবাগ কেল্লা-১৬৬৪

সূফীতত্ত্বের ভূমিকা

১৩ শতকের শুরুতে,মুঘলদের বাংলা বিজয় উত্তর ভারতের ঘটে ১১৯২ সালে । প্রধানত মহম্মদ ঘোরী এর অভিযানের পরিণাম হিসাবে জায়গা নেয়। সৈয়দ শাহ নাসিরুদ্দিন ইরাকের ছিলেন কিন্তু ইসলাম ছড়াতে বাংলাদেশ এসেছিলেন।

বুযুর্গগণ

শাহ জালাল (রঃ)

শাহজালাল (জন্ম তুরস্ক ৬৭১ হিঃ ১২৭১ইং- মৃত্যু; ৭৪০ হিঃ ১৩৪১ ইং) ভারতীয় উপমহাদেশের বিখ্যাত সুফি দরবেশ। তার পুরো নাম শায়খ শাহ জালাল কুনিয়াত মুজাররদ। ৭০৩ হিজরী মোতাবেক ১৩০৩ ইংরেজি সালে ৩২ বত্সর বয়সে ইসলাম ধর্ম প্রচারের লক্ষ্যে অধুনা বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

হযরত শাহ মখদুম (রঃ)

শাহ মখদুম রূপোশ (১২১৬-১৩৩১ খ্রিষ্টাব্দ) বাংলার প্রথিতযশা সুফী সাধক এবং ধর্ম-প্রচারকদের মধ্যে অন্যতম। তিনি ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষার্ধে এবং চতুর্দশ শতাব্দীর শুরুতে বাংলাদেশ তথা রাজশাহী অঞ্চলে ইসলামের সুমহান বানী প্রচার করেছিলেন। তার অনুপম ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে শত শত মানুষ ইসলাম ধর্মে দীক্ষা গ্রহণ করেন। মূলত শাহ মখদুমের মাধ্যমেই বরেন্দ্র এবং গৌড় অঞ্চলে ইসলামের শক্তিশালী বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হয় । বর্তমানে এসব অঞ্চল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল ।

হযরত শাহপরান (রঃ)

বাংলাদেশের বেশির ভাগ মুসলমান সুন্নি। তারা হানাফি মাযহাবের অনুসারী। এ দলের দেওবন্দী এবং বেরলভি আন্দোলন অন্তর্ভুক্ত। বিশ্ব ইজতেমা (বিশ্ব ধর্মসভা) বাংলাদেশ এবং দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে ৫ মিলিয়ন মানুষ আকৃষ্ট, প্রার্থনা এবং ধ্যান উপর গুরুত্ত্ব দেয়, যা তাবলিগ জামাত দ্বারা বার্ষিক অনুষ্ঠিত একটি ঘটনা ।

আহলে হাদীসের বৃহৎ অনুগামী বাংলাদেশে আছে। আহলে হাদীস তিনটি প্রধান দল আছে, অধিকাংশ মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ আল গালিব দ্বারা আহলে হাদীস আন্দেলন বাংলাদেশ পরিচালিত, অন্যান্য দলের মধ্যে জামাতে আহলে হাদীস ও আহলে হাদীস তাবলীগ ই ইসলাম। দেশে প্রায় ১৫০০ টি আহলে হাদীস মসজিদ এবং ৫০ টি মাদ্রাসা রয়েছে।

জেলা অনুযায়ী মুসলমান জনসংখ্যা

বাংলাদেশে ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী বিভিন্ন জেলার মুসলিম জনসংখ্যা

জেলা

শতকরা হার(%)

বরগুনা

৯১.০১%

বরিশাল

৮৬.১৯%

ভোলা

৯৩.৪২%

ঝালকাঠি

৮৭.৩১%

পটুয়াখালী

৯১.৪৫%

পিরোজপুর

৭৯.০১%

ঢাকা

৯২.০০%

ফরিদপুর

৮৮.০০%

গাজীপুর

৯১.৯০%

গোপালগঞ্জ

৬৩.৫১%

জামালপুর

৯৭.৭৪%

কিশোরগঞ্জ

৯২.১০%

মাদারীপুর

৮৫.৬৭%

মানিকগঞ্জ

৮৭.০০%

মুন্সীগঞ্জ

৯০.৭৮%

ময়মনসিংহ

৯৪.৭৩%

নারায়ণগঞ্জ

৯২.৫৭%

নরসিংদী

৯৩.২৮%

নেত্রকোনা

৮৩.০০%

রাজবাড়ী

৮৬.৭৩%

শরীয়তপুর

৯৫.৫৪%

শেরপুর

৯৫.০০%

টাঙ্গাইল

৯১.৫২%

চাঁদপুর

৯৯.৫৫%

চট্টগ্রাম

৮৩.৯২%

কুমিল্লা

৯৩.৮৫%

কক্সবাজার

৯২.১৩%

ফেনী

৯২.৮০%

লক্ষ্মীপুর

৯৫.৩১%

নোয়াখালী

৯৩.৪১%

ব্রাহ্মণবাড়িয়া

৯০.৭৩%

বাগেরহাট

৭৭.৪৫%

চুয়াডাঙ্গা

৯৬.৭৩%

যশোর

৮৫.৫০%

ঝিনাইদহ

৮৮.০৭%

খুলনা

৭৩.৩৯%

কুষ্টিয়া

৯৫.৭২%

মাগুরা

৭৭.৮৯%

মেহেরপুর

৯৭.৫০%

নড়াইল

৭৫.৫৬%

সাতক্ষীরা

৭৮.০৮%

বগুড়া

৯১.০০%

জয়পুরহাট

৮৮.১৮%

নওগাঁ

৮৪.৫১%

নাটোর

৯০.৪৭%

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

৯৪.২৭%

পাবনা

৯৫.১২%

রাজশাহী

৯৩.০০%

সিরাজগঞ্জ

৯২.০০%

দিনাজপুর

৭৬.৬৫%

কুড়িগ্রাম

৯১.৬৫%

লালমনিরহাট

৮৩.২০%

নীলফামারী

৮২.৬৪%

পঞ্চগড়

৮১.৭৯%

রংপুর

৮৯.৬০%

ঠাকুরগাঁও

৭৪.৯৭%

হবিগঞ্জ

৮০.২৩%

মৌলভীবাজার

৭০.৫৯%

সুনামগঞ্জ

৮৩.৬২%

সিলেট

৯২.৫৭%

খাগড়াছড়ি

৫৩.৪৫%

বান্দরবান

৪৭.৬২%

রাঙামাটি

৩৯.২৮%

বাংলাদেশ

৮৯ .৪০%

ধর্মীয় স্বাধীনতা

বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, প্রত্যেক নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে। তারা তাদের মত করে ধর্ম পালন করতে পারবে। প্রজাতন্ত্রের সংবিধান, সকল ধর্মীয় বৈষম্যকে অবৈধ ঘোষণা করেছে।

ইসলাম যেভাবে হিন্দুস্তানে আসে

হিন্দুস্তান বা হিন্দুস্থান, বর্তমান Indian Subcontinent (ভারতীয় উপমহাদেশ) এর ঐতিহাসিকভাবে জনপ্রিয় নামগুলির একটি।এইনামের আক্ষরিক অর্থ “সিন্ধু নদের দেশ”।হিন্দুস্তান নামটি বেশ প্রাচীন, যা এসেছে আদি ফার্সি শব্দ “হিন্দু” থেকে।

ঐতিহাসিকভাবে “হিন্দু” কোন ধর্মের নাম নয় বরং সিন্ধু নদের পাড়ে বসবাসরত মানুষদেরকে বোঝাতো তারা যে ধর্মের অনুসারীই হোক না কেন। অন্যদিকে, বর্তমান হিন্দুধর্মের মূল নাম হচ্ছে সনাতন ধর্ম (সংস্কৃতঃ सनातन धर्म) যা কালের বিবর্তনে এখন হিন্দুধর্ম নামে পরিচিত হয়ে গিয়েছে।

আজ হিন্দুস্তানে (বাংলাদেশ, ভারত এবং পাকিস্তানে) বসবাসরত প্রায় ৫০ কোটি মুসলিম এই অঞ্চলকে বিশ্বের মুসলিম জনশক্তির অন্যতম একটি কেন্দ্রে পরিণত করেছে। ইসলাম সর্বপ্রথম এই অঞ্চলে আসার পর থেকেই এই অঞ্চলের মানুষদের মাঝে অনেক অবদান রেখেছে এবং এখনও রেখে যাচ্ছে। কিভাবে এই বিশাল অঞ্চলে ইসলাম এসেছে তা নিয়ে অনেক মতবাদ আছে। রাজনৈতিভাবে, কেউ কেউ (যেমন বর্তমান ভারতের ‘হিন্দুত্ব’ আন্দোলন) ইসলামকে বিদেশী বলে আখ্যা দেয়ার চেষ্টা করে, তাদের ভাষ্যমতে, আরব ও পারস্যের মুসলিমদের বহিরাক্রমণের কারণেইএখানে ইসলামের প্রবেশ ঘটে ও বিস্তার লাভ করে। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা এরকম নয়।

হিন্দুস্তানের সর্বপ্রথম মুসলিমগণ

রাসূল ﷺ এর জন্মের পূর্বে থেকেই আরব ব্যবসায়ীদের হিন্দুস্তানে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল। ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে তারা পশ্চিম হিন্দুস্তানের উপকূলীয় বন্দরগুলোতে ভীড়তেন। ব্যবসার মূল দ্রব্য ছিল মশলা, স্বর্ণ এবং আফ্রিকান পণ্য। স্বাভাবিকভাবেই আরবরা যখন নতুন নতুন ইসলাম গ্রহণ করে, তারা তাদের এই নতুন ধর্ম হিন্দুস্তানের উপকূলে নিয়ে আসে। এভাবে হিন্দুস্তানের প্রথম মুসলিম “পেরুমল ভাস্কর রবি বার্মা” ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে (রাসূল ﷺ এর জীবনকালেই) কেরালা তে হিন্দুস্তানের প্রথম মসজিদঃ চেরামান জুম’আ মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। আরব মুসলিম এবং হিন্দুস্তানীদের মাঝে অব্যাহত বাণিজ্যের মাধ্যমে ইসলাম আস্তে আস্তে হিন্দুস্তানের উপকূলীয় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এর মূল মাধ্যমগুলো ছিল দেশান্তর এবং ধর্মান্তরীকরণ।

মুহাম্মাদ বিন কাশিম

হিন্দুস্তানে ইসলাম সবচেয়ে বেশি ছড়িয়ে পড়ে দামেস্ক-ভিত্তিক উমাইয়া খলিফাদের শাসনামলে। ৭১১ খ্রিস্টাব্দে, সিন্ধু অঞ্চলে উমাইয়াদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে উমাইয়ারা মাত্র ১৭ বছর বয়সী তায়েফের এক অধিবাসীঃ “মুহাম্মাদ বিন কাশিম” কে নিয়োগ দেয়। ‘সিন্ধু’ হচ্ছে উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল, যা বর্তমান পাকিস্তানের সিন্ধু নদের তীরবর্তী এলাকা। মুহাম্মাদ বিন কাশিম এর নেতৃত্বাধীন ৬০০০ সৈন্যের এক বাহিনী পারস্যের সবচেয়ে-পূর্বের ‘মাক্‌রান’ (বর্তমান সিন্ধু এবং বেলুচিস্তানের দক্ষিণে) অঞ্চলে এসে পৌঁছায়।

হিন্দুস্তানে আসার পথে তিনি তেমন বাধার সম্মুখীন হননি। সিন্ধু নদের তীরবর্তী শহর ‘নেরুন’ এর কাছাকাছি পৌঁছালে শহরের বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা তাকে স্বাগত জানান, শহরটি মূলত সন্ন্যাসীদের অধীনেই ছিল। সিন্ধু নদের তীরবর্তী অন্যান্য শহরগুলোও এরপর কোন যুদ্ধ-বিগ্রহ ছাড়াই স্বেচ্ছায় মুসলিমদের অধীনে চলে আসে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে, নির্যাতিত বৌদ্ধ সংখ্যালঘুরা তাদের এলাকার হিন্দু শাসক থেকে পালিয়ে মুসলিম সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে।

উল্লেখ্য যে, সিন্ধুর জনসাধারণকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণে বাধ্য করা হয়নি। বরং প্রকৃতপক্ষে, কারো দৈনন্দিন জীবনে কোন পরিবর্তনই আসেনি। মুহাম্মাদ বিন কাশিম তার অধীনস্থ হিন্দু ও বৌদ্ধদের নিরাপত্তা দেন এবং ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দেন। 

ধর্মান্তরীকরণের নমুনা

ধারাবাহিক জয়ের মাধ্যমে মুসলিম সেনারা একই পদ্ধতিতে হিন্দুস্তানরা অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে থাকে। হিন্দুস্তানের সমাজের ধর্মীয় এবং সামাজিক কাঠামো পরিবর্তন করা ছাড়াই গজনীর সুলতান মাহমুদ এবং মুহাম্মাদ তুঘলুক মুসলিমদের রাজনৈতিক এলাকা বিস্তৃত করেন।

প্রাক-ইসলামিক যুগে হিন্দুস্তানের সমাজের কাঠামোর ভিত্তি ছিল বর্ণ প্রথা, যার মাধ্যমে সমাজ কয়েক অংশে বিভক্ত ছিল। মানুষের মাঝে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ব্যাপারটা ধাপে ধাপে হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এক বর্ণের সকলেই ইসলাম গ্রহণ করে। এর পিছনে বিভিন্ন কারণও ছিল। বর্ণ প্রথার বৈষম্যের চেয়ে ইসলাম সমাজে যে সমতা এনেছিল তা মানুষের কাছে বেশী আকর্ষণীয় ছিল। বর্ণ প্রথায় মানুষের অবস্থান নির্ণয় হয় জন্মের মাধ্যমে। সমাজে সক্রিয় অবদান রাখা তো দূরের কথা, এমনকি পিতা-মাতার যতটুকু অর্জন করেছে তার চেয়ে বেশী অর্জন করাই সম্ভব ছিল না। ইসলাম এসে মানুষকে উপরে ওঠার সুযোগ করে দেয়, ব্রাহ্মণ গোত্রের পরাধীনতা থেকে দেয় মুক্তি।

হিন্দুস্তানে জনসাধারণের মাঝে ইসলাম এর বাণী পৌঁছিয়ে দিতে শিক্ষকগণ মুখ্য ভূমিকা পালন করেন। মুসলিম পণ্ডিতগণ গোটা হিন্দুস্তান জুড়ে পরিভ্রমণ করেছিলেন, মানুষকে ইসলামের শিক্ষা দেয়াকে করে নিয়েছিলেন জীবনের লক্ষ্য। বেশীরভাগই আবার সুফী মতবাদ প্রচার করেছিলেন। এই মতবাদ ছিল ইসলাম প্রচারের এক রহস্যময় পন্থা যা জনসাধারণকে অনেক কৌতূহলী করে তুলেছিল। শুধুমাত্র মুসলিম শাসকদের নিকটস্থ সমাজের অভিজাত শ্রেণীদেরই নয়, গ্রামাঞ্চলের বৃহৎ জনসংখ্যাকে ইসলামের পথে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে এই শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল।

ইসলাম এর প্রসার কি জোর-জবরদস্তি করে হয়েছে?

দাবী করা হয় যে, হিন্দুস্তানে ইসলামের অসংখ্য অনুসারীর কারণ হচ্ছে জোর-জবরদস্তি এবং বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ধর্মান্তরীকরণ। এ ব্যাপারে কোন সুস্পষ্ট প্রমাণ মিলেনি। যদিও পরবর্তীতে মুসলিম শাসকদের পরিবর্তে হিন্দু রাজারা শাসনে এসেছিল, কিন্তু সমাজ রয়ে গিয়েছিল আগের মতোই। জবরদস্তি ও বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ধর্মান্তরীকরণ এর ঘটনা খুবই কম, তাছাড়া একাডেমিক আলোচনা এবং গবেষণার ক্ষেত্রেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।

ইসলাম যদি সত্যিই সত্যিই সংঘাত ও যুদ্ধ-বিগ্রহের মাধ্যমে বিস্তার লাভ করতো, তাহলে হিন্দুস্তানে মুসলিম সম্প্রদায় আজ শুধুমাত্র অন্যান্য মুসলিম অঞ্চলের কাছাকাছি জায়গাগুলোতে বিদ্যমান থাকতো। অর্থাৎ শুধুমাত্র উপমহাদেশের পশ্চিমাংশে মুসলিম জনসংখ্যা থাকতো। বরং আমরা এখন যা দেখতে পাই তা হলো উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইসলাম ছোট-বড় আকারে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।

উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশের ১৫ কোটি মুসলিম রয়েছে উপমহাদেশের সর্ব-পূর্বে, যা হিন্দুস্তানের বিশাল হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চলের মাধ্যমে অন্যান্য মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন। এমন আরো বিচ্ছিন্ন অঞ্চল আছে পশ্চিম-মিয়ানমার, মধ্য-হিন্দুস্তান এবং শ্রীলঙ্কার পূর্বাঞ্চলে। এই অঞ্চলগুলোতে মুসলিমদের অস্তিত্বই প্রমাণ করে ইসলাম শান্তিপূর্ণভাবে গোটা উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে, মুসলিম শাসক ছিল কি ছিলনা তার উপর নির্ভর করে নয়। অনেকের দাবী ইসলাম জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে বিস্তার লাভ করেছে, একথা সত্যি হলে উল্লেখিত অঞ্চলগুলোতে মুসলিম সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব থাকতো না। এ ধরনের দাবীকে ইসলামের শান্তিপূর্ণ বাণী প্রচারের মাধ্যমেই মোকাবেলা করতে হবে।

Islam History (ইসলাম ইতিহাস):

Islam means to achieve peace like, peace with God, peace within oneself, and peace with the creations of God – through wholly submitting oneself to God and accepting His guidance.

The name Islam was instituted by the Qur’an, the sacred scripture revealed to Muhammad and for believers, Islam is not a new religion. Rather, it represents the last reiteration of the primordial message of God’s Oneness, a theme found in earlier monotheistic religious traditions.

Though Islam can be described as a religion, it is viewed by its adherents – a fifth of the world’s population – in much broader terms. Beyond belief in specific doctrines and performance of important ritual acts, Islam is practiced as a complete and natural way of life, designed to bring God into the center of one’s consciousness, and thus one’s life. 

What is the Essence of Islam?

Prophet Muhammad mentioned in a narrative the best summary of the core of Islam as follows:

“Submission means that you should bear witness that there is no god but God and that Muhammad is God’s messenger, like that you should perform the ritual prayer, pay the alms tax, fast during Ramadan, and make the pilgrimage to the House if you are able to go there.”

“Faith means that you have faith in God, His angels, His books, His messengers, and the Last Day, and that you have faith in the measuring out, both its good and its evil.”

“Doing what is beautiful means that you should worship God as if you see Him, for even if you do not see Him, He sees you.”

Who is God in Islam?

The Qur’an, the divinely-revealed scripture of Islam, contains numerous verses describing the nature of God. 

Muslims believe that God has no partners or associates who share in His divinity or authority and that God is transcendent, unlike His creations, and thus has no physical form. Nor is God believed to exist in (or be represented by) any material object. A number of divine attributes or “names,” which serve to describe God, are found in the Qur’an. And Some commonly known attributes include the Most Merciful, the Most Forgiving, the Most High, the Unique, and the Everlasting, among others.

Are humans an image of God?

In Islam, human beings, like other creations, are seen as completely unlike God, though they may aspire to exhibit various attributes manifested by God, such as justice or mercy. Furthermore, even while God is believed to be beyond traditional human perception, the Qur’an states:
“His is the Sovereignty of the heavens and the earth and, unto Allah (all) things are brought back” (Quran 57:5)

WHAT IS THE QURAN ALL ABOUT?

The word Qur’an literally means “the reading” or “the recitation”, and refers to the divinely revealed scripture given to Muhammad. Since Muhammad is considered the last prophet of God, the Qur’an is believed to be the final revelation from God to humanity. 

The Quran is considered by Muslims to be the literal Speech of God given to Muhammad in the Arabic language. The chapters and verses of the Quran were revealed throughout Prophet Muhammad’s mission, over a span of close to twenty-three years, from 610-632 C.E. Contrary to common misconception, Muhammad is not the author of the Quran.

In short, the Quranic verses played an immediate and practical role in the spiritual lives of Muslims from the outset. Before he passed away, the Prophet arranged the 114 chapters into the sequence we find in the Quran as we have it today. Scholars, both Muslim and non-Muslim, agree that the Qur’an has remained intact and unchanged to the present.

WHO ARE THE MUSLIMS?

The word Muslim literally means “one who willfully submits (to God).” The term Muslim refers to one who believes in the Shahadah (the declaration of faith containing the basic creed of Islam) and embraces a lifestyle in accord with Islamic principles and values.

Anybody may be or become a Muslim, regardless of gender, race, nationality, color, or social or economic status. A non-Muslim who decides to enter Islam does so by reciting the Shahadah, (pronounced La-Ilaha Ila Allah, Muhammad-un Rasool Allah) witnessing that “there is no deity but Allah (God), and Muhammad is His Messenger.”

Where do Muslims live?

Over 1.8 billion people throughout the world are adherents of Islam. Islam is the religion of diverse peoples living in Europe, Africa, the Middle East, Central, East, South and Southeast Asia, Japan, Australia, and North and South America. The global spectrum of races, ethnicities and cultures finds representation in the worldwide Muslim community.

Muslims throughout the world share the same essential beliefs, values, and God-centered approach to the world. Furthermore, all Muslims look to the Qur’an and the lifestyle and traditions of Prophet Muhammad for guidance in their daily affairs. In this respect, Muslims share a common Islamic culture, focusing on shared principles and values. 

THE MESSENGER OF ALLAH – MUHAMMAD (PBUH)

Islam teaches that Muhammad’s role as the final prophet of God was to confirm the authentic teachings of previous prophets and to rectify mistakes or innovations that followers of previous monotheistic faith traditions had introduced into the original religion of humankind.

Muhammad is also viewed as the conduit for the completion of God’s guidance to humanity; the scope of his mission is seen as encompassing all people, rather than a specific region, group or community. Furthermore, his life serves as a perfect model of how to practice Islam fully.

“Muhammad is not the father of any man among you, but he is the messenger of Allah and the Seal of the Prophets; and Allah is Aware of all things” (Quran 33:40) 

IS ISLAM COMPATIBLE WITH THE MODERN WORLD?

According to Islam, men and women are spiritually equal beings created from a common origin. All of the religious obligations in Islam are incumbent upon both women and men. God’s mercy and forgiveness apply equally to men and women. The following Qur’anic verse, arguably the first gender-equity statement in any major scripture, illustrates this point:

“Lo! men who surrender unto Allah, and women who surrender, and men who believe and women who believe, and men who obey and women who obey, and men who speak the truth and women who speak the truth, and men who persevere (in righteousness) and women who persevere, and men who are humble and women who are humble, and men who give alms and women who give alms, and men who fast and women who fast, and men who guard their modesty and women who guard (their modesty), and men who remember Allah much and women who remember–Allah hath prepared for them forgiveness and a vast reward” (Quran 33:35)

Since the seventh century

The Qur’an specified the natural and inherent rights of women as well as men, and enjoins people to act in line with God’s teachings of justice and equity. Islam gave gave women the right to own and inherit property, the right to obtain an education, the right to contract marriage and seek divorce, the right to retain one’s family name upon marriage, the right to vote and express opinions on societal affairs, and the right to be supported financially by male relatives (husband, father, brother, etc.).

Clearly, common stereotypes regarding women’s rights must be carefully considered, and the current practice of Muslims in various countries and regions must be examined within the context of history and within light of the sources of Islam in order to ascertain the degree to which Muslim women are able to exercise their rights today.

Do Muslims believe in laws beside the religious law (Shariah)?

The term Shari’ah means “the path” or literally “the way to a watering place.” Shari’ah is commonly used to mean divinely-revealed “Islamic Law,” which plays a central role in the lives of Muslims throughout the world. 

On a societal level, in some Muslim countries Shari’ah is implemented as the basis for the judicial system and for regulating the collective affairs of citizens. Other countries implement a hybrid of Shari’ah and civil law, while some others do not implement Shari’ah at all.

What is Islam’s view on human rights and social justice?

According to Islam, human beings are the noblest creations of God, endowed with consciousness and freedom of choice. The Qur’an states that God has made human beings His trustees or stewards on the earth. Muslims see this world as God’s field, and human beings as the caretakers.

So Islam places great emphasis on social justice for all people. Muslims consider it an obligation to oppose all who exploit, oppress, discriminate, and deal unjustly with people.

“O ye who believe! Be ye staunch in justice, witnesses for Allah, even though it be against yourselves or (your) parents or (your) kindred, whether (the case be of) a rich man or a poor man, for Allah is nearer unto both (than ye are). So follow not passion lest ye lapse (from truth) and if ye lapse or fall away, then lo! Allah is ever Informed of what ye do” (Quran 4:135)

বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় জানতে ভিজিট করুন www.prosno.xyz | সাথেই থাকুন www.IslamBangla.Com ভিজিট করতে থাকুন ।

সূত্রঃ Wikipedia, Lost islamic history, islamicity.org