সাফল্যের পথ যেদিকে

successs

মূলঃ ডঃ আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ আল কাসেম | অনুবাদঃ মুহাঃ আবদুল্লাহ্‌ আল কাফী

আল্লাহ তায়ালার নির্ধারিত মানচিত্র অনুসরণ করা ব্যতিরেকে সাফল্যের স্বর্ণ দুয়ারে পৌঁছা আদৌ সম্ভব নয়। তাই আসুন, আল্লাহর নির্ধারিত সাফল্যের পথের পরিচয় নেয়ার চেষ্টা করি মসজিদে নববীর সম্মানিত ইমাম ও খতীব ডঃ আবদুল মুহসিন বিন মুহাম্মাদ আল কাসেম এর কলাম থেকে—

সৌভাগ্যের পথ:

মহান আল্লাহর পরিপূর্ণ ইবাদতের মাঝেই রয়েছে বান্দার প্রকৃত সাফল্য ও সৌভাগ্য। ইবাদত তখনই প্রকৃত ও সঠিক হবে, যখন বান্দা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তথা এখলাসের সাথে এবং নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নির্দেশিত পথে তা সম্পাদন করবে। কেননা বান্দার ইবাদত আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে না হলে তা বিনষ্ট। আল্লাহ্‌ বলেন: “আমি (কিয়ামত দিবসে) তাদের কৃতকর্মগুলো বিবেচনা করবো, অতঃপর সেগুলোকে বিক্ষিপ্ত ধূলি-কণায় পরিণত করবো।” [সূরা ফুরকান: ২৩]

অনুরূপভাবে ইবাদতটি যদি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর নির্দেশনা তথা সুন্নত মোতাবেক না হয়, তবুও তা প্রত্যাখ্যাত। তিনি এরশাদ করেন: “যে ব্যক্তি এমন আমল করবে, যার পক্ষে আমার কোন নির্দেশনা নেই, তা প্রত্যাখ্যাত।” [মুসলিম]

একনিষ্ঠ ভাবে সুন্নত মোতাবেক আমল হলেই তা আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্য হবে। আল্লাহ্‌ বলেন: “নিশ্চয় যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম সম্পাদন করে, তাদের মেহমানদারীর জন্যে নির্দিষ্ট আছে জান্নাতুল ফেরদাউস।” [সূরা কাহাফঃ ১০৭]

তাওহীদের দু’টি রুকনঃ

ইসলাম ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ‘না’ বাচক এবং ‘হ্যাঁ’ বাচক বাক্যের মাধ্যমে। (উহা হচ্ছে লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌) এ দু’টি ব্যতীত মানুষের ইসলাম বিশুদ্ধ হবে না। ‘না’ বাচক হচ্ছে: (লা- ইলাহা) অর্থাৎ যাবতীয় ইলাহ বা মা’বূদ এবং তাদের অনুসারীদের থেকে নিজেকে মুক্ত করা। আর ‘হ্যাঁ’ বাচক কথা হচ্ছে (ইল্লাল্লাহ্‌) অর্থাৎ এককভাবে আল্লাহকে ইলাহ বা মা’বূদ হিসেবে সাব্যস্তকরা এবং শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করা। আল্লাহ্‌ বলেন: “অতএব যারা গোমরাহ কারী ‘তাবুত’দেরকে মানবে না (অস্বীকার করবে) এবং আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন করবে, তারা ধারণ করে নিয়েছে সুদৃঢ় হাতল যা ভাঙ্গবার নয়।” [সূরা বাকারাঃ ২৫৬]

(‘সুদৃঢ় হাতল’ হচ্ছে লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌)

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: “যে ব্যক্তি লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌ বলবে এবং আল্লাহ্‌ ব্যতীত যাবতীয় উপাস্যকে অস্বীকার করবে তার সম্পদ বিনষ্ট করা এবং রক্ত প্রবাহিত করা হারাম হয়ে যাবে। তার আভ্যন্তরিন বিষয় আল্লাহর কাছে ন্যস্ত।” [বুখারী ও মুসলিম]

ইসলামের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে তাওহীদ এবং সর্বাধিক কঠিন নিষিদ্ধ বিষয় হচ্ছে শিরক। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে প্রশ্ন করা হল, “সর্বাধিক বড় পাপ কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর শরীক নির্ধারণ করা অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” [বুখারী ও মুসলিম]

সকল নবী ও রাসূল মানুষকে তাওহীদের প্রতি আহ্বান করেছেন, এককভাবে আল্লাহর ইবাদত করতে নির্দেশ দিয়েছেন এবং শিরক থেকে সতর্ক করেছেন। আল্লাহ্‌ বলেন: “এবং প্রত্যেক জাতির নিকট আমি একজন করে রাসূল প্রেরণ করেছি এই নির্দেশ দিয়ে যে, তোমরা আল্লাহ্‌র ইবাদত কর এবং তাগূত থেকে দূরে থাক।” [সূরা নাহালঃ ৩৬]

Leave a Reply