শিরকী গুনাহ


sirik-gonah-allah

বিষয়ঃ কালেমার বিবরণ

শিরকী গুনাহ

১। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারাে উপাসনা করা ও অন্য কারাে কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা।
২। কা’বা ঘর তওয়াফের ন্যায় কোন কবর বা মাজারের চতুর্দিকে তওয়াফ করা, মাজারের বুজুর্গের নিকট কোন সাহায্য প্রার্থনা করা। আল্লাহ ছাড়া অন্য কারাে উদ্দেশ্যে নামায পড়া কিংবা রােযা রাখা, আল্লাহ তা’আলার ন্যায় অন্য কারাে নামে তাসবীহ বা অজিফা পাঠ করা।
৩। কোন মুরীদ যদি তার পীরের প্রতি এরূপ ধারণা করে যে, সে গায়েব জানেন। অথবা পীর আওলিয়াদের কারামাত প্রত্যক্ষ করে যদি ধারণা করে যে, আল্লাহ তাআলা স্বীয় খােদায়িত্বের কিছু অংশ তাকে প্রদান করেছেনকিংবা তাঁর জাতের সাথে ফানা করে দিয়েছেন।
৪। আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকে বা বস্তুকে সিজদা করা শিরেকী গুণাহ্। আল্লাহ্ তা’আলা কোরআন শরীফে সূরা হা-মীম-সিজদা এর ৩৭তম আয়াতে বলেন-
উচ্চারণঃ ওয়া মিন্ আ-ইয়াতিহি ল্লাইলু ওয়ার্নাহা-রু ওয়াশ্ শামসু ওয়াল্ কামারু ; লা-তাস্জুদূ লিশৃশামসি ওয়ালা-লিলকবামারি; ওয়াসজুদু লিল্লা- হিল্লাবী- খলাক্বাহুন্না ইন কুরনতুম ইয়্যা-হু তা’বুদূ-ন।

অর্থঃ “রাত, দিন এবং চন্দ্র, সূর্য তাঁরই নিদর্শনের মধ্য হতে ; তােমরা সূর্য ও চন্দ্রকে সিজদাহ্ করােও না বরং তােমরা আল্লাহকে সিজদা কর যিনি এ সমস্ত সৃষ্টি করেছেন যদি তােমরা একমাত্র আল্লাহ্ তা’আলারই এবাদতকারীহও।”

অনেক জ্ঞানহীন লােক তাঁদের পীর-মুরশিদকে সিজদা করে থাকে এটা সর্বাবস্থায় হারাম ও শেরেকী গুনাহ। আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কাকেও সিজদা করলে সে কাফের হয়ে যাবে।

রিযিক বৃদ্ধি, উদ্দেশ্য লাভ করা, রােগ-ব্যধি হতে মুক্তি লাভ করার নিয়তে আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারাে কাছে প্রার্থনা করা, মান্নত করা বা জপ করা সম্পূর্ণরূপে হারাম ও শেরেকী গুনাহ্। যে কোন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য পীর-অলীদের নিকট প্রার্থনা করা শেরেকী গুনাহ্। গণককে হাত দেখিয়ে তার কথায় ভাগ্যের ভাল-মন্দ বিশ্বাস করা শেরেকী গুনাহ্। শেরেকী গুনাহের ভেতরে কোন কোন শেরেক স্পষ্ট বা প্রকাশ্য রয়েছে, যেমন- চন্দ্র, সূর্য, অগ্নি ও দেব-দেবীর মূর্তি পূজা করা। এ ধরনের শেরেককে শিরকে জলী’ বলা হয়ে থাকে। আবার অনেক শেরেকী গুনাহ এমনি অস্পষ্টযে, তা সাধারণ লােকেরা জ্ঞানের অভাবে বুঝিতে সক্ষম হয় না বলে শেরেকী গুনাহে লিপ্ত হয়ে থাকে। যেমন ঔষধ সেবন করতঃ আরগ্য লাভ করে ধারণা করা যে, ঔষধই নিরাময়কারী। যদি কোন মানুষকে বলে যে, “উপরে আল্লাহ নীচে আপনি ব্যতীত আমার আর কেউ সাহায্যকারী নেই।” অথবা এইরূপ কথা বলা যে, “অমুকে আমাকে বাঁচিয়েছে কিংবা অমুকে আমার সর্বনাশ করেছে”। ইত্যাদি ধারনা করা বা বলা শেরেকী গুনাহ হবে। একে “শিরকেখফী” বলা হয়ে থাকে।

সহজ নূরানী নামায শিক্ষা, মিনা বুক হাউজ


Leave a Reply